খুলনার রূপসা উপজেলায় একটি ভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে হাসান শেখ (৬৩) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত হাসান শেখ রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসানের বাড়িতে ভ্যানে করে কিছু অতিথি আসেন। অতিথিরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরই ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। এই চুরির ঘটনায় হাসান শেখ স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ শেখকে সন্দেহ করেন। এই সন্দেহ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসান জাবুসা চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থান করছিলেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাশেদসহ চার থেকে পাঁচজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক মীর জানান, ভ্যান চুরি নিয়ে সন্দেহের সূত্রপাত থেকেই এ বিবাদের উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহত হাসানের ভাই বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জেলার নয়টি থানায় মোট ২১টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা সমাজবিজ্ঞানীদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সে জন্য দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।