মানুষের জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করা। পবিত্র কোরআনের আলোকে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যে প্রতিনিয়ত মানুষকে সত্যপথ থেকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা চালায়। শয়তানের প্রধান কৌশল হলো মানুষের অন্তরে কুপ্ররোচনা সৃষ্টি করা, যা মানুষকে ইবাদত, জ্ঞানার্জন এবং নেক আমল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। শয়তান মানুষের সামনে পাপকাজকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে এবং মিথ্যা আশা ও দীর্ঘমেয়াদী আকাঙ্ক্ষায় নিমজ্জিত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
ইসলামি জীবনবিধান অনুযায়ী, শয়তানের চক্রান্ত থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হলো মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যখনই শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি বা কুচিন্তা মনে উদয় হয়, তখনই ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পাঠ করা জরুরি। এটি কেবল একটি শব্দ নয়, বরং আল্লাহর আশ্রয়ে নিজের আত্মাকে সঁপে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। শয়তান মানুষকে অভাবের ভয় দেখিয়ে অশ্লীল কাজে প্রলুব্ধ করে, অন্যদিকে আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
শয়তানের কৌশলগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম। সে মানুষের সামনে, পেছন থেকে, ডান ও বাম দিক থেকে আক্রমণ চালায় অর্থাৎ জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ছড়াতে চেষ্টা করে। তবে যারা প্রকৃত মুমিন এবং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করেন, তাদের ওপর শয়তানের কোনো আধিপত্য চলে না। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যখনই শয়তানি কোনো প্ররোচনা মুমিনদের স্পর্শ করে, তারা তৎক্ষণাৎ আল্লাহকে স্মরণ করেন, যার ফলে তাদের অন্তরের চোখ খুলে যায় এবং তারা সত্যপথ খুঁজে পান।
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানুষের মানসিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির মূলে অনেক সময় শয়তানি প্ররোচনা কাজ করে। নৈতিক অবক্ষয় রোধে এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জনে কোরআনের এই শিক্ষাগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শয়তানের মিথ্যা প্রলোভন থেকে বাঁচতে হলে প্রতিনিয়ত জিকির, নেক আমল এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা অপরিহার্য। এটি কেবল পরকালীন মুক্তির পথই প্রশস্ত করে না, বরং ইহকালীন জীবনেও একজন মানুষকে সৎ ও নিষ্ঠাবান হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। পরিশেষে, আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হওয়ার মাধ্যমেই শয়তানের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করা সম্ভব।