সাধারণত ব্যাংকের ভেতরে লেনদেনের গম্ভীর পরিবেশই আমরা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভৈরব পৌরশহরের বঙ্গবন্ধু সরণি এলাকায় অবস্থিত এনআরবিসি ব্যাংকের শাখায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল এক ভিন্ন দৃশ্য। ব্যাংকের ভেতরেই স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী গোলপোস্ট, যেখানে গ্রাহকরা লেনদেনের পাশাপাশি গোল দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজকে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার সঙ্গে জুড়ে দিতেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরে দাপ্তরিক কাজ করছেন। গ্রাহকরা লেনদেন শেষ করে গোলপোস্টে গোল দেওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছেন। ফোরকান আহমেদ নামের এক গ্রাহক টাকা জমা দিতে এসে এই আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তার দৈনন্দিন লেনদেনের অভিজ্ঞতায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। শুধু গোল দেওয়া নয়, গ্রাহকদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে কুইজ প্রতিযোগিতা। বিজয়ী গ্রাহকদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ফুটবল, বাঁশি ও প্রিয় দলের পতাকা। এছাড়া গ্রাহকদের আবদার মেটাতে তাদের গালে পছন্দের দেশের পতাকা এঁকে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক রকিবুল হাসান জানান, ব্যাংকিং সেবাকে মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতেই এই আয়োজন। তিনি বলেন, ফুটবল মানুষের আবেগের জায়গা, আর সেই আবেগকেই স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাজন খান যোগ করেন যে, গ্রাহকরা বর্তমানে শুধু সেবা নয়, বরং একটি ভালো অভিজ্ঞতার প্রত্যাশাও করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যকার দূরত্ব আরও কমে এসেছে।
আয়োজনটির প্রশংসা করেছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরাও। ভৈরব উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান বলেন, ব্যাংকিং অর্থনীতির সঙ্গে খেলার এমন সৃজনশীল সংযোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়া গ্রাহকদের আপ্যায়নে ছিল দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া; ছোলা, মুড়ি, জামের ভর্তা ও চালতার আচারের মতো খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখার এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক সেবার গণ্ডি পেরিয়েও মানুষের আনন্দ ও আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব, যা স্থানীয় পর্যায়ে এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি করেছে।