বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বর্তমানে এক বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে, তাতে গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২২ সালে কাতারের প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে ফিফা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শীতকালে আয়োজন করেছিল। সেই সিদ্ধান্তটি মাঠের খেলার মান এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেসের দিক থেকে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, ২০৩০ বা ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ কী হবে?
বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের আমেজ চলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া বা অন্যান্য ভেন্যুতে খেলোয়াড়দের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অসহনীয় গরমে হাইড্রেসন ব্রেক দিয়ে খেলা চালিয়ে নেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে ক্রীড়াবিশ্বে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেবল খেলোয়াড় নয়, স্টেডিয়ামের দর্শক এবং মাঠকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও এখন বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর মতো দেশগুলোতে যখন প্রচণ্ড গরম থাকে, তখন জুন-জুলাইয়ের সূচি নিয়ে ফিফাকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো বিষয়টিকে কেবল একটি টুর্নামেন্টের সূচি হিসেবে দেখছেন না, বরং এটিকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইউরোপীয় ঘরোয়া লিগগুলোর ক্যালেন্ডারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শীতকালীন বিশ্বকাপ আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি। ২০২২ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, মৌসুমের মাঝপথে বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের ক্লান্তিকে কিছুটা কমিয়ে আনে এবং খেলার মান উন্নত করে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও শীতকালীন বিশ্বকাপের দর্শকপ্রিয়তা দেখে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।
২০৩৪ সালের সৌদি আরব বিশ্বকাপ নিয়ে এরই মধ্যে শীতকালে আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে ফিফা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তারা কেবল মাঠের তাপমাত্রা নয়, বরং ফ্যান জোন বা যাতায়াত ব্যবস্থার মতো সামগ্রিক বিষয়গুলো যাচাই করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় ফিফা হয়তো তাদের দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে গ্রীষ্মের বিশ্বকাপ কেবলই ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে এবং ফুটবল বিশ্ব এক নতুন ও আরামদায়ক সূচির দিকে এগিয়ে যাবে।