বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর মহারণে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার লড়াইটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। প্রথমার্ধে দুই দলই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্রনাট্য পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ক্রোয়েশিয়া অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে শুরু করে এবং ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের একটি জোরালো শট পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার দক্ষতায় প্রতিহত হয়। তবে ৫৩ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণভাগের সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়। যোসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত ক্রস থেকে দূরের পোস্টে থাকা ইভান পেরিসিচ ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজম করার পর পর্তুগাল ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে তাদের দুর্ভাগ্যের সঙ্গী হয় ক্রসবার এবং অফসাইড। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওর দূরপাল্লার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে পর্তুগালের সমতায় ফেরার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসে। এরপর ৬১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনায় তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ কৌশলগত পরিবর্তনের আশ্রয় নেন। তিনি বার্নার্দো সিলভা, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও এবং গনসালো রামোসকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণভাগকে নতুন রূপ দেন।
এই পরিবর্তনের সুফল পর্তুগাল দ্রুতই পায়। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে নিকোলা ভ্লাশিচ বক্সের ভেতর রেনাতো ভেইগাকে টেনে ধরলে রেফারি ভিএআর যাচাই করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৬৮ মিনিটে স্পট-কিক থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কোনো ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনেন। একদিকে রোনালদোর গোল এবং অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের প্রতিরোধের লড়াইয়ে ম্যাচটি এখন চরম উত্তেজনার পর্যায়ে রয়েছে। উভয় দলই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে লড়ছে এবং শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।