সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে গোসলে নেমে সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩) নামে এক চিকিৎসক নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে গিয়ে পানির তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। নিখোঁজ সুব্রত সাহা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে। তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সুব্রত সাহা তার তিন বন্ধুর সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটে ঘুরতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছান। এরপর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় তারা নদীতে গোসলে নামেন। নদীর পানির প্রবল স্রোতে এক পর্যায়ে তারা বিপাকে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্রোতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তিন বন্ধু পানির তোড়ে ভেসে যেতে থাকেন। এর মধ্যে দুজন বন্ধু কোনোমতে প্রাণ বাঁচাতে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হলেও সুব্রত সাহা স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং পরে কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিখোঁজ চিকিৎসকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযানে পানির গভীরতা এবং প্রবল স্রোত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভোলাগঞ্জ ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পর্যটক নিখোঁজের খবর পেয়েই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার রাতের বেলা উদ্ধার কাজ স্থগিত রাখা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নদীর পানির গভীরতা এবং স্রোতের পরিবর্তন সম্পর্কে পর্যটকদের অসচেতনতা ও সতর্ক সংকেত না মানার ফলে এমন প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন বারবার পর্যটকদের সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানালেও দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। সুব্রত সাহাকে উদ্ধারের অপেক্ষায় এখন তার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন।