বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব, আর মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি হয়ে উঠেছেন স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন সেনসেশন। সম্প্রতি ইউরো কাপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান বিশ্বকাপেও তিনি নিজের ক্যারিশমা দেখিয়ে চলেছেন। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে তিনি জানান দিয়েছেন বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার সক্ষমতা।

পরিসংখ্যান বলছে, লামিনে ইয়ামাল যখনই স্পেনের শুরুর একাদশে থেকেছেন, তখনই জয় নিশ্চিত হয়েছে স্প্যানিশদের। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং তার মাঠের প্রভাবের প্রতিফলন। তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড অফ-৩২ এর ম্যাচের আগে ইয়ামাল মোট আটবার স্পেনের প্রথম একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আর প্রতিটি ম্যাচেই স্পেন মাঠ ছেড়েছে জয়ের হাসি নিয়ে। ইউরো থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ—সবখানেই তার উপস্থিতিতে স্পেন এক অজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও ইয়ামালের ওপর আস্থা রেখেছিলেন কোচ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে স্পেন তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। পরবর্তীতে ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান ২-০ তে উন্নীত হলে জয়ের পথ প্রশস্ত হয়। ইয়ামালের মতো একজন খেলোয়াড় যখন দলের মূল একাদশে থাকেন, তখন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। তার ক্ষিপ্রতা, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতা স্পেনের আক্রমণভাগকে করেছে আরও ধারালো।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামাল কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং স্পেনের বর্তমান দলের চালিকাশক্তি। তরুণ বয়সেই বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলে যেভাবে তিনি নিজের সেরাটা দিচ্ছেন, তা সত্যিই বিরল। স্প্যানিশ সমর্থকরা এখন তাকে দলের ‘লাকি চার্ম’ হিসেবেই দেখছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই দাপুটে পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, এবারের বিশ্বকাপে স্পেন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ইয়ামালের এই অপরাজেয় ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে স্পেনের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করা খুব একটা কঠিন হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।