বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় পর্তুগাল। তবে এই ম্যাচের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স ৪১ ছুঁইছুঁই, তাই ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা এটিই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ আসর। টরন্টোতে পর্তুগাল দল পৌঁছানোর পর প্রবাসী পর্তুগিজ সমর্থকদের কাছ থেকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা দলের সামগ্রিক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জয়ের জন্য খেলছি না, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছি। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আমরা ক্রিশ্চিয়ানোর জন্যও এই শিরোপা জিততে চাই।’ ভিতিনহার মতে, রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তির বিদায়ী মঞ্চকে স্মরণীয় করে রাখতে দলের প্রতিটি সদস্য নিজেদের উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন যে, গ্রুপ পর্বের তুলনায় নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কৌশলগতভাবে আরও উন্নত এবং ছন্দময় ফুটবল উপহার দিতে হবে।
এদিকে অনুশীলনে রোনালদোকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। মাঠের বাইরে উপস্থিত ভক্তদের অভিবাদনের জবাব দেওয়ার সময় রোনালদোর শারীরিক ভাষা ছিল স্পষ্ট—তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নন। বরং মাঠের লড়াইয়ে হৃদয় উজাড় করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তার লক্ষ্য। পর্তুগিজ কোচিং স্টাফ এবং সতীর্থরা এখন তাকিয়ে আছেন শুক্রবারের সেই মহারণের দিকে, যেখানে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। পর্তুগালের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ক্রোয়েশিয়ার শক্তিশালী রক্ষণব্যূহ ভাঙাই হবে তাদের মূল চ্যালেঞ্জ। গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর এখন টরন্টোর এই ম্যাচের দিকে, যেখানে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার অগ্নিপরীক্ষা শুরু হবে।