সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ ৯ দিন আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল আদালত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, নারী লাঞ্ছনা এবং কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের মতো গুরুতর একাধিক মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অটোরিকশা ও ব্যাটারি লুটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়ায় তদন্তে নতুন গতি আসবে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তার অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সাভার থানা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামিরের বিরুদ্ধে মাদক কারবার ও ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠতে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সামিরের পরিবারের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে; তার বড় ভাই হৃদয় হোসেন মাদক মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যদিও অতীতে সামির তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন, তবে গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ধরনের অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সংগঠনে কোনো স্থান নেই। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে বহিষ্কার করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কঠোর অবস্থান জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রিমান্ড পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।