যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত অলিম্পিক ক্যানোয়িস্ট ডেভিড ‘ডেভি’ হার্ন বর্তমানে এক আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি থাকলেও, এই ঘটনার পর থেকে তিনি গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে, যখন ওয়াশিংটন ডিসির মলের রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের জন্য হার্নকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ওই সংরক্ষিত এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করেছেন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিফ্লেক্টিং পুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং এর অবকাঠামোর ক্ষতি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সম্প্রতি একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বড় ধরনের জরিমানা এবং কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। হার্ন ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ক্যানোইং ইভেন্টে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং একজন দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার বেশ সুনাম ছিল। তবে এই সাম্প্রতিক ঘটনা তাকে এক অন্যরকম বিতর্কিত পরিচিতি দিয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের অধীনে থাকে। সেখানে যেকোনো ধরনের ভাঙচুর বা অবমাননাকর কর্মকাণ্ডকে মার্কিন আইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। ডেভি হার্নের আইনজীবী দল এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি, তবে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ক্রীড়াজগত থেকে অবসরে যাওয়া এই তারকা এখন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরিবর্তে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের আইনি লড়াইয়ের জন্য শিরোনামে উঠে এসেছেন। পুরো বিষয়টি এখন মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগের বিস্তারিত দিকগুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।