বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল রেতলাংয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-মূল) একটি যৌথ গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত ২৮ জুন থেকে সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেতলাংয়ের গহীন অরণ্যে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কেএনএ এবং ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আস্তানা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের আস্তানাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বর্তমানে ওই এলাকা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের নির্মূলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগেও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস করতে একাধিক সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযানের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযান পুরোপুরি সমাপ্ত হলে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান এই কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাহাড়ি জনপদে স্থিতিশীলতা ফেরাতে যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।