সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন উৎসব, ক্রীড়া ইভেন্ট এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে পবিত্র কালেমা খচিত কালো পতাকা ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণাপত্রে জানানো হয় যে, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কালেমা খচিত পতাকা তৈরি বা উত্তোলন জায়েজ হলেও, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এর যথেচ্ছ ব্যবহার বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ওলামায়ে কেরামদের মতে, কালেমা আমাদের ঈমানের মূল ভিত্তি এবং প্রতিটি মুসলমানের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র। তবে বর্তমানে কালেমা লিখিত কালো পতাকা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতীকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায়, এর ব্যাপক ব্যবহার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো গোষ্ঠী এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিছিল বা সমাবেশে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। হাদিস ও সিরাতগ্রন্থের আলোকে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে কালেমা সংবলিত পতাকার ব্যবহার মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের বিশেষ প্রয়োজন বা নির্দেশনার সাথে সম্পর্কিত ছিল। সাধারণ সভা-সমাবেশে এ ধরনের পতাকার ব্যবহারের কোনো নজির ইসলামি ঐতিহ্যে পাওয়া যায় না।

ঘোষণাপত্রে আরও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, শরিয়তের একটি মূলনীতি হলো—যদি কোনো বৈধ কাজও সমাজে ফিতনা বা বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে জনস্বার্থে তা থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া, গণহারে ব্যবহৃত এসব পতাকা অনুষ্ঠানের শেষে যত্রতত্র পড়ে থাকা, ছিঁড়ে যাওয়া বা পদদলিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। পবিত্র কালেমার অবমাননা রোধে এবং এর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। খেলাধুলা বা সাধারণ কর্মসূচিতে ধর্মীয় প্রতীকের এমন ব্যবহার অনিচ্ছাকৃতভাবেও যেন পবিত্রতার অমর্যাদা না ঘটায়, সেদিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেম সমাজ। পরিশেষে, মসজিদের ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জনগণকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ থাকে।