ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে সোমবার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পক্ষ থেকে আগেই একটি ‘বিশাল হামলার’ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিধ্বংসী আক্রমণটি ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাষ্যমতে, এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় এবং সমন্বিত হামলা। রাশিয়ার ছোড়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলায় কিয়েভের একটি শিশু হাসপাতালসহ বেশ কিছু জনবহুল এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই শহরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক প্রাক্কালে এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে রাশিয়া তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া, অন্যদিকে ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়া কেবল ইউক্রেনের অবকাঠামোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে না, বরং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তার সক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা রাশিয়ার ছোড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অনেকগুলোই লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছে।

বর্তমানে কিয়েভের পরিস্থিতি থমথমে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শহরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং হামলার শিকার এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল এই ঘটনাকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে দেখছে। চলমান এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং শান্তির সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।