পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামে। বর্তমানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন বিলকুলা গ্রামের সাজাই আলীর ছেলে মামুন (৩৪) এবং একই গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩৫)। স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ওই কিশোরীর বাবা সৌদি আরবে প্রবাসী। অভিযুক্ত মামুন ও জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়ির দিকে কুনজর রাখত এবং প্রায়ই উঁকিঝুঁকি দিত। গত ৩০ জুন ভোররাত ৪টার দিকে কিশোরীটি ঘর থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল তার মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরী তার মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বললে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত ১ জুলাই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের উদ্রেক হয়। এর জেরে বুধবার রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মামুনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে জুয়েলের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় পুলিশ প্রশাসন এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।