ফুটবল বিশ্ব বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আধুনিক ফুটবলের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লুকা মদরিচের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। ক্রীড়া সাংবাদিক উৎপল শুভ্রর সঞ্চালনায় এবং প্রখ্যাত কোচ মারুফুল হকের অংশগ্রহণে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় উঠে এসেছে এই দুই কিংবদন্তির বিদায়লগ্নের নানামুখী সমীকরণ। পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা লুকা মদরিচ—দুজনেই দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। তবে বয়সের ভার এবং মাঠের পারফরম্যান্সে কিছুটা ভাটা পড়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন: কে আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন?
মারুফুল হকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রোনালদোর খেলার ধরণ এবং তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তার বিদায়ের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেললেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তার প্রভাব আগের মতো নেই বলে অনেকে মনে করেন। অন্যদিকে, লুকা মদরিচ রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে এখনো তার সৃজনশীলতা এবং গেম রিডিংয়ের দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণ করে চলেছেন। মদরিচের খেলার ধরণ মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক, যা তাকে বয়স বাড়লেও মাঠে টিকে থাকতে সাহায্য করছে। রোনালদোর ক্ষেত্রে বিষয়টিকে দেখা হয় তার অদম্য জেদ এবং গোল করার নেশার প্রতিফলন হিসেবে।
এই দুই তারকার বিদায় কেবল মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে না, বরং এটি তাদের মানসিক প্রস্তুতিরও বিষয়। কোচ মারুফুল হক মনে করেন, রোনালদো হয়তো আরও কিছু সময় নিজেকে প্রমাণ করতে চাইবেন, কারণ রেকর্ড ভাঙা এবং গড়ার নেশা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু মদরিচের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেকটা দলের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মতো। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে তার নেতৃত্বে গত দুটি বিশ্বকাপে যে সাফল্য এসেছে, তা ফুটবল ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, রোনালদো এবং মদরিচ উভয়েই এমন উচ্চতায় পৌঁছেছেন যেখানে তাদের বিদায় হবে এক যুগের সমাপ্তি। তাদের উত্তরসূরিরা যদিও তৈরি হচ্ছে, তবুও তাদের শূন্যস্থান পূরণ করা সহজ হবে না। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে যখন দ্রুতগতির ফুটবল প্রাধান্য পাচ্ছে, তখন রোনালদো ও মদরিচের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিকে অনেকেই মেন্টরশিপ হিসেবে দেখেন। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই মহারথীর বিদায়লগ্ন ফুটবল অনুরাগীদের জন্য যেমন আবেগঘন, তেমনি তাদের ক্যারিয়ারের শেষটা হবে গৌরবোজ্জ্বল। ফুটবল বিশ্ব এখন শুধু তাকিয়ে আছে সময়ের দিকে, যখন এই দুই কিংবদন্তি নিজেরাই ঘোষণা করবেন তাদের অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।