ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া হারনান গিল নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। একটি বহুতল কার পার্কিং ধসে পড়ার পর তিনি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে চাপা পড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৯২ ঘণ্টা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে ফেরা এই ব্যক্তির উদ্ধারের ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে এক আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা যখন তার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, তখন হারনান গিল দুর্বল কণ্ঠে তাদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন। তার এই মানসিক দৃঢ়তা উদ্ধারকারী দলের সদস্যদেরও বিস্মিত করেছে।
ভূমিকম্পের পর থেকেই ভেনিজুয়েলার উদ্ধারকারী দলগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হারনান গিলকে উদ্ধারের পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকলেও তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে বাতাসের চলাচল এবং হারনান গিলের বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।
এই উদ্ধারকাজটি ভেনিজুয়েলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাধারণত ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা জীবিত উদ্ধারের শেষ সময়সীমা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু আট দিন পর হারনান গিলের বেঁচে ফেরা আধুনিক উদ্ধার প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং মানুষের অদম্য প্রাণশক্তির এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকারী দলের প্রশংসা করা হয়েছে এবং নিখোঁজ অন্য ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষ এই খবর শোনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হারনান গিলের দ্রুত সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করছেন।