দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অঙ্গনে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং নতুন প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘বিন’ (BIN)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত এই তরুণ প্রতিনিধিরা এখন থেকে বিন-এর ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তিগত প্রচার এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রসারে কাজ করবেন। একটি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এই নতুন অ্যাম্বাসেডরদের বরণ করে নেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভিশন অনুযায়ী দেশের তরুণ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে। বিন-এর এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবেই কাজ করবেন না, বরং তারা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে প্রযুক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং স্থাপনে সেতু হিসেবে কাজ করবেন। তাদের মাধ্যমে প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন আইডিয়া ও উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বিন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অ্যাম্বাসেডরদের নিয়মিত মেন্টরশিপ, কর্মশালা এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এর ফলে তারা কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বগুণের অধিকারী হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই ধরনের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সহায়ক। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, তরুণ এই অ্যাম্বাসেডরদের সৃজনশীল চিন্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতিশীল হবে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগটি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিন-এর এই কার্যক্রম শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচার নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষিত তরুণদের মূলধারার প্রযুক্তি অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত করার একটি মহৎ প্রয়াস। অনুষ্ঠানের শেষভাগে নতুন অ্যাম্বাসেডরদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের আগামী দিনের কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।