ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশে যে ব্যাপক উন্মাদনা ও আবেগ কাজ করে, তাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) গ্রহণ করেছে এক অনন্য উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (এসএইচএসএস) তত্ত্বাবধানে আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘এনএসইউ ওয়ার্ল্ড কাপ কুইজ চ্যালেঞ্জ ২০২৬’। এই প্রতিযোগিতায় অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। মূলত ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস, রেকর্ড এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এই আয়োজনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এনএসইউ কেবল প্রযুক্তি বা ব্যবসায় শিক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং এখানে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় উচ্চতর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানে স্বতন্ত্র স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে। এছাড়া সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন আধুনিক বিষয়ে এখানে পড়ার সুযোগ রয়েছে। অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলামের মতে, মাঠের খেলা দেখার আবেগকে জ্ঞানগত উৎকর্ষতায় রূপান্তর করাই এই কুইজ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। এটি একই সঙ্গে স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেলবন্ধন স্থাপনের বড় সুযোগ।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের দুইজন সদস্য নিয়ে দল গঠন করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা www.quizshss.nsudeml.com লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজয়ী দলগুলোর জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ হাজার টাকা, প্রথম রানার-আপ ৩০ হাজার এবং দ্বিতীয় রানার-আপ পাবে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হবে।

এই আয়োজনের সমন্বয়ক ও ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক ইরতিফা জামান এবং সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাসনীম ইমা মনে করেন, এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করবে না, বরং তাদের এনএসইউর একাডেমিক পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও ধারণা দেবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, তেমনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নেটওয়ার্কিং ও বন্ধুত্বের সুযোগ তৈরি হবে। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলামের ভাষায়, এটি কেবল একটি সাধারণ কুইজ নয়, বরং তরুণদের জন্য এক মিলনমেলা, যা বিশ্বকাপের আবেগকে একটি গঠনমূলক ও সৃজনশীল পথে পরিচালিত করবে।