নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দশ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আতিকুর রহমান সুজা (৩৮) নামের এক স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজশাহী জেলার বাগমারা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সুজা আত্রাইয়ের মহাদিঘী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং স্থানীয় মহাদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধ নিতে মহাদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। ক্লিনিকে সে সময় অন্য কেউ না থাকায় একা পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মী আতিকুর রহমান শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত ঘটনা জানায়।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগীর পরিবার গত ১ জুলাই আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজশাহী জেলার বাগমারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।’ তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ধরণের ঘটনা কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটির নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।