বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটে। মৃতদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগের একজন করে শিশু রয়েছে। এই নতুন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৬৩১ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনসহ মোট ৭২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সংক্রমণের হারও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১২ হাজার ২৮৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা প্রদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি, তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে কাজ করছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার জনস্বাস্থ্যের এই জরুরি পরিস্থিতিতে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে নির্দেশনা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের শরীরে হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও বারবার এর প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফল করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।