বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ কার্যদিবসে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন ও বড় উত্থানের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর প্রথম দিনেই হোঁচট খেল দেশের শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কিছুটা সতর্ক অবস্থান দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে লেনদেনের পরিমাণেও।

সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই ডিএসইতে অস্থিরতা দৃশ্যমান ছিল। লেনদেনের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রধান সূচক ২৫ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলে। যদিও পরবর্তীতে কিছু ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা বাড়ায় সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, কিন্তু দিনের শেষভাগে বিক্রির চাপে সেই ধারা বজায় থাকেনি। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৪৩ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। একইসঙ্গে ভালো কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে নেমেছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ডিএসই শরিয়াহ সূচক, যা দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ১৮৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টির দর। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা মালেক স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট বিনিয়োগকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকলেও সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় ১৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা কমে ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে বাজেট পরবর্তী প্রভাব এবং বাজারের অস্থিরতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের দোদুল্যমানতা কাজ করছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশগ্রহণকারী ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দর বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক সূচকের পতনে বাজারের নেতিবাচক প্রবণতাই ফুটে উঠেছে। যদিও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, তবে সূচকের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনীতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি-নির্ধারণী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।