মাগুরা শহরে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে মাগুরা শহরের ভায়না মোড় এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ‘মেসার্স আবালপুর ড্রাগ হাউস’ নামক একটি ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় এই দণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান চলাকালে ওই ফার্মেসিতে ভয়াবহ কিছু অনিয়মের চিত্র ফুটে ওঠে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ জানান, ফার্মেসিটিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ ‘ফিজিশিয়ান স্যাম্পল’ ওষুধ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্যাকেটজাত করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং কোনো নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ সরবরাহের মতো গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মেয়াদবিহীন ওষুধগুলো ভালো ওষুধের প্যাকেটে ঢুকিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

মাগুরা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়। একই সাথে, ভবিষ্যতে এই ধরণের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি পরবর্তীতে একই ধরনের অনিয়ম পুনরায় পরিলক্ষিত হয়, তবে দোকান সিলগালাসহ আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ধরনের অভিযান মাগুরা জেলাজুড়ে নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন নিয়মিত তদারকি থাকলে ওষুধ ব্যবসায়ীরা নিয়ম মানতে বাধ্য হবেন এবং সাধারণ মানুষ সঠিক ও নিরাপদ ওষুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারবে।