বৃহস্পতিবার সকালে সারা দেশে শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার প্রথম দিনেই রাজধানীর শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকার রাজপথ। অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে অনেকটা যুদ্ধ জয়ের মানসিকতা নিয়ে। নয়াটোলার বাসিন্দা হালিমা খাতুন তার মেয়েকে নিয়ে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। রিকশায় রওনা হয়েও যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয় তাদের। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছান তারা। হালিমা খাতুন জানান, যানজট আর বৃষ্টির কারণে তার মেয়ে মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছিল, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলার শঙ্কা তৈরি করে।
শুধু এই শিক্ষার্থী নন, রাজধানীর অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকেই পরীক্ষার আগেই কেন্দ্রে পৌঁছানোর ‘অতিরিক্ত পরীক্ষা’ দিতে হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরীক্ষার্থী রাউফুন নাহার নিশাও একই পরিস্থিতির শিকার হন। শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রে প্রবেশ করা অনেক শিক্ষার্থীর চোখেমুখে ছিল ক্লান্তি ও উদ্বেগের ছাপ। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা নেওয়া হয়। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও যানজট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে।