বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্ট আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে দল গঠনে বড় ধরনের রদবদল এনেছে। টেস্ট সিরিজে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞদের ওপরই আস্থা রাখছে বিসিবি। শামীম পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও ইয়াসির আলী রাব্বিকে। সেই সঙ্গে উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানকে অন্তর্ভুক্তি দিয়ে মিডল অর্ডারকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অলরাউন্ডার হিসেবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের অন্তর্ভুক্তি দলটির গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দলের টপ অর্ডার নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কৌতুহল থাকলেও নির্বাচকরা আপাতত তরুণদের সুযোগ দেওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠিতদের ওপরই ভরসা রাখছেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের মতো ব্যাটারদের ওপরই আপাতত আস্থা রাখা হচ্ছে। তবে তরুণ ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানের ওপর নির্বাচকদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে। তাকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের ওপেনার হিসেবে গড়ে তুলতে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট এবং ‘এ’ দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য এইচপি দলের সাথে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের করার প্রক্রিয়ায় আছেন।
এদিকে বোলিং ইউনিট নিয়ে বেশ উদ্বেগে রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটে খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের মতো ফ্রন্টলাইন পেসারদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার হাসান মাহমুদের কাউন্টি ক্রিকেটের ফর্ম এবং সাম্প্রতিক টেস্টের পারফরম্যান্সের মধ্যে বড় পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। তবে এবাদত হোসেনের ক্ষেত্রে উদ্বেগটা যেন একটু বেশিই। ইনজুরি থেকে ফিরে আসার লড়াইয়ে থাকা এবাদতকে নিয়ে নির্বাচকরা কিছুটা হতাশ। যদি তিনি আগামী এনসিএল এবং বিসিএল-এ নিজেকে ফিরে পেতে ব্যর্থ হন, তবে জাতীয় টেস্ট দলে তার জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান দল নির্বাচন ও পারফরম্যান্স পর্যালোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল দল গঠনের দিকে মনোনিবেশ করছে।