আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। এবারের পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের গুজব রোধে শিক্ষা বোর্ডগুলো এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এর তথ্য ও পাসওয়ার্ড বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে ডিজিটাল নজরদারি এবং প্রতিটি কক্ষে পরিদর্শকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জনের জন্য একজন পরিদর্শক থাকবেন এবং ৫ ফুট বাই ৬ ফুট বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষার্থী বসতে পারবেন। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় এবার বহুমুখী নিরাপত্তা স্তর প্রয়োগ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগেই প্রশ্নপত্র ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে আনা হবে এবং কেবল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সেট কোড পাওয়ার পরেই প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলার নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারো মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই এবং পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবে না।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা চালানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে ০২-২২৩৩৬৯৮১৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ই-মেইলের মাধ্যমেও তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে শিক্ষা প্রশাসন এবার পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।