সিয়াটলের ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর মহারণে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নেওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছে সেনেগাল। প্রথমার্ধের দাপুটে ফুটবলের পর দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে আফ্রিকান দেশটি। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইসমাইলা সারের লক্ষ্যভেদী শটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সেনেগাল এখন পরবর্তী রাউন্ডের পথে এক পা দিয়ে রেখেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও ইলিমান এনদিয়ায়েদের সমন্বিত আক্রমণে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ চরম চাপের মুখে ছিল। কেভিন ডি ব্রুইনের মতো তারকা ফুটবলাররা বলের দখল ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছেন। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে হাবিব দিয়ারার গোল সেনেগালকে এগিয়ে দেয়। সাদিও মানের দুর্দান্ত ক্রস থেকে আসা বল পোস্টের বাধা পেরিয়ে ফিরলে দিয়ারা নিখুঁত টোকায় জাল কাঁপান। প্রথমার্ধের পরিসংখ্যান ছিল সেনেগালের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ—৬৫ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের পায়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেলজিয়াম মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সেনেগালের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দিয়াও ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। ৫১তম মিনিটে ইসমাইলা সারের গোলটি বেলজিয়ামের ম্যাচে ফেরার স্বপ্নকে বড় ধাক্কা দেয়। উল্লেখ্য, ম্যাচ শুরুর আগে অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসে সেনেগালের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ২৩ শতাংশ থাকলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে তারা সেই পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে।

বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বারবার দলকে বড় ব্যবধানের লজ্জা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও সেনেগালের অদম্য গতির সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের হয়ে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড ও ম্যাক্সিম ডি কুইপার গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করলেও সেনেগালিজ গোলরক্ষক দিয়াও অসাধারণ দক্ষতায় তা রুখে দেন। এখন দেখার বিষয়, ম্যাচের বাকি সময়ে বেলজিয়াম কোনো অলৌকিক প্রত্যাবর্তন ঘটাতে পারে কি না, নাকি সেনেগাল তাদের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট হাতে তুলে নেয়।