বিশ্বের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় আরোহণ করে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মতো দুঃসাহসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটিয়েছেন এক যুগল। তবে এই রোমান্টিক মুহূর্তের রেশ কাটতে না কাটতেই আইনি জটিলতায় পড়েছেন অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ইভান বিয়ারকাস নামের এই দুই দুঃসাহসী আরোহী। আকাশচুম্বী এই ভবনের অ্যান্টেনার শীর্ষে উঠে বিপজ্জনকভাবে নিজেদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করার পর নিউইয়র্ক পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে যখন এই যুগল কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় আরোহণ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তারা শুধু আরোহণই করেননি, বরং সেখানে একটি পতাকাও উত্তোলন করেন। তাদের এই কর্মকাণ্ডের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জীবনের বিশেষ একটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখা—বিয়ের প্রস্তাব। চূড়ায় পৌঁছানোর পর তারা একে অপরকে আংটি পরিয়ে বিয়ের অঙ্গীকার করেন। তবে তাদের এই কর্মকাণ্ড নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল বেআইনি অনুপ্রবেশই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই যুগল আগে থেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ আরোহণের জন্য পরিচিত। তারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আকাশচুম্বী ভবনে অনুমতি ছাড়াই আরোহণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে থাকেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল তাদের নিজেদের জীবনের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করে না, বরং এটি শহরের আইন-শৃঙ্খলার পরিপন্থী। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। অবৈধভাবে ভবনে প্রবেশ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত এলাকা ছাড়া ভবনের বাইরের অংশে আরোহণের কোনো সুযোগ নেই এবং এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রেমের টানে বা রোমাঞ্চের নেশায় এ ধরনের বিপজ্জনক পথ বেছে নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বর্তমানে আটক ওই যুগলকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করলেও, বেশিরভাগ মানুষই নিরাপত্তার খাতিরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।