চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলী তালুকদার বাড়িতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুনের সূত্রপাত হয় একটি বসতঘরের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে দমকল বাহিনীর একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ততক্ষণে মামুন, রিয়াজ, মো. আমানউল্লাহ, মো. আসিফ, শহিদ ও নজরুল নামের ছয় ব্যক্তির দুটি সেমিপাকা ঘর, দুটি কাঁচা ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি টয়লেটসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সময়োচিত হস্তক্ষেপে পাশের অন্তত আরও কয়েকটি বাড়ি বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়রা বিত্তবান ও সরকারি পর্যায়ে পরিবারগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন।