গতকাল রাতে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত মিনিটের ৯৬তম মিনিটে নাটকীয় গোলটি করেন তরুণ ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, যা সেলেসাওদের এনে দেয় এক অবিস্মরণীয় জয়। এই জয় ব্রাজিলের অদম্য মানসিকতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার ক্ষমতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল দু’দলই। ম্যাচের শুরু থেকেই জাপান তাদের দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সুসংগঠিত রক্ষণ দিয়ে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানায়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে, ম্যাচের ২৬তম মিনিটে, কাইশু সানোর দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় জাপান। সানোর জোরালো শট ব্রাজিলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়, যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত জাপানি সমর্থকদের উন্মত্ত উল্লাসে ভাসিয়ে তোলে।
গোল হজম করার পর ব্রাজিল কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়লেও দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেয়। তারকা মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর নেতৃত্বে সেলেসাওরা একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৪২তম মিনিটে, ক্যাসেমিরো এক কর্নার কিক থেকে আসা বলে অসাধারণ হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। তার এই গোলটি দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং প্রথমার্ধ ১-১ গোলে শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আক্রমণের ধার বাড়ালেও জাপানের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সুসংহত এবং তারা পরিকল্পিতভাবে ব্রাজিলের আক্রমণ রুখে দিচ্ছিল।
ম্যাচের সময় যত গড়াচ্ছিল, উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই উত্তেজনা বাড়ছিল। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হতে চলেছে এবং টাইব্রেকারে এর নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু ফুটবলের নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত ৬ মিনিট যোগ করা হয়। সেই অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৯৬তম মিনিটে, ব্রাজিলিয়ান তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে জাপানের রক্ষণভাগ ভেদ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এবং বল জালে জড়ান। তার এই গোলটি ব্রাজিল শিবির এবং সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উল্লাস নিয়ে আসে, যেন এক পর্বতসম বোঝা নেমে গেল সবার কাঁধ থেকে।
এই জয় শুধু শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের স্থানই নিশ্চিত করেনি, বরং দলের মধ্যে এক নতুন উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে। কোচ লিওনার্দো বাচ্চি (তিতে) ম্যাচের পর দলের লড়াই করার মানসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, “কঠিন পরিস্থিতিতেও জয়ের পথ খুঁজে বের করা একটি চ্যাম্পিয়ন দলের লক্ষণ। এই জয় আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেল।” অন্যদিকে, জাপান যদিও হেরেছে, তাদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই করেছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিল এখন শেষ ষোলোতে তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নেবে, যেখানে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারে।