যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ই জিন ক্যারল মামলায় ট্রাম্পের আপিল করার আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এর ফলে লেখক ও সাংবাদিক ই জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া ৫০ লাখ ডলার জরিমানার রায়টি বহাল থাকল। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্পের আইনি লড়াইয়ে এক বড় ধরনের পরাজয় ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দশক আগের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ই জিন ক্যারল দাবি করেছিলেন যে, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প বারবার তা অস্বীকার করেন এবং ক্যারলকে মানসিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন। এরপর ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি জুরি বোর্ড ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন ও মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে ভুক্তভোগীকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প উচ্চতর আদালতে আপিল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট কোনো শুনানি ছাড়াই এই আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় আইনি পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে গেল। সর্বোচ্চ আদালতের এই নীরবতা মূলত নিম্ন আদালতের রায়কে সমর্থন করার শামিল। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ক্যারলের জন্য একটি নৈতিক জয় এবং একই সাথে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই রায়টি এমন সময়ে এল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এই মামলাটি একটি দেওয়ানি মামলা এবং এর ফলে ট্রাম্পের কারাদণ্ড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবুও জনসমক্ষে তার অতীত কর্মকাণ্ডের এই আইনি স্বীকৃতি তার নির্বাচনী প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রিপাবলিকান দলের এই শীর্ষ নেতা বর্তমানে আরও বেশ কিছু আইনি জটিলতার মুখোমুখি রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প তার আইনি কৌশল কীভাবে পরিবর্তন করেন এবং এই রায় ভোটারদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে।