ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্ধারকাজে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে গত সপ্তাহান্তে মোট ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে, যাদের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অত্যন্ত সংকটময় অবস্থায় বের করে আনা হয়। এই ঘটনাটি বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১,৪০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্পগুলো ভূমিকম্পের তীব্রতায় মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। অনেক পরিবার তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কোনো প্রাণের স্পন্দন আছে কি না, তা জানতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শব্দ শোনার চেষ্টা করছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার পর এক বাবা ও ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভেনেজুয়েলার এই সংকটে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, এমন মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন উদ্ধারকাজ চলছে, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার উদ্ধারকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।