ক্ষমতাচ্যুত সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আসছে ট্রেনের বগি। সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। ইকোনোমিক টাইমসকে ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ জুলাইয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত আছে।
ভারত থেকে ৯১৫ কোটি রুপিতে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। ২০টি কোচ সেই চুক্তির অংশ হিসেবে পাঠানো হবে। এই কোচ কেনায় অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে ভারত এই কোচ নির্মাণের কাজ পায়।
ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন,এই চুক্তির প্রথম রেক আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হবে। বাংলাদেশের কাছে বগিগুলো হস্তান্তরে প্রস্তুতি চলছে। কোচগুলো তৈরি করা হচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায়।
ইকোনোমিক টাইমস বলেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু নতুন ২০টি কোচ আসার মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতের বগি রপ্তানির বিষয়টি পুনরায় শুরু হবে।
২০২৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর এই প্রজেক্টের কাজ ধীরগতির হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু এখন কাজ পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলছে।
এদিকে এই ২০০টি কোচের কাজ পাওয়ার আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রগগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ১০ মিটার গজ লোকোমোটিভ পাঠিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী এবং পরিবহন অবকাঠামোতে সহযোগিতার অংশ ছিল এগুলো।
সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে কোচ সরবরাহের পাশাপাশি ডিজাইন সাপোর্ট, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ এবং এগুলো চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে সহায়তা করবে ভারত।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে আজ সকালে ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনব্যাপী এই মূল সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় তারা পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনের অধিক প্রতিনিধি, শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, শিল্প খাতের রূপান্তর এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। বেইজিং সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।