ধারাবাহিক বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টায় দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০২ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন শুক্রবার (১৯ জুন) একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পানি বেড়েছে ৩৮ সেন্টিমিটার।
পানি বাড়তে থাকায় তিস্তার চরাঞ্চল ও নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে আবাদি জমি পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নেওয়া কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীর দুই তীর উপচে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, পানির চাপ বাড়তে থাকায় চরের অনেক কৃষকের জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। উজানে পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বন্যার আশঙ্কা করছেন। হাতীবান্ধার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, তিস্তার পানি আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারীর কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তাদের চর ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। তিনি বলেন, “এখনও বাড়িতে আছি। তবে পানি আরও বাড়লে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। উজান থেকে ঢলের পানি ক্রমাগত আসছে।
মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মকবুল হোসেনের আশঙ্কা, এবার বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, আমন ধানের চারার জন্য তৈরি করা বীজতলা ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির গতি দেখে পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না।
রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, তিস্তা নদীর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম ও ঘাঘট নদীতে এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে তিস্তাপাড়ে বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।