সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামি জাকির হোসেন সোহেলের সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সম্পর্ক আছে— এমন দাবি তুলে একটি ব্যানারের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম “রিউমার স্ক্যানার” জানিয়েছে, প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত (এডিটেড) এবং বিভ্রান্তিকর।

রিউমার স্ক্যানারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ব্যানারে মূল ছবির একটি অংশ পরিবর্তন করে সেখানে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামি জাকির হোসেন সোহেলের ছবি বসানো হয়েছে। অথচ প্রকৃত ব্যানারে অন্য ব্যক্তির ছবি ছিল এবং সেখানে সোহেলের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত তুলনামূলক ছবিতে দেখা যায়, “এডিটেড ফটো” হিসেবে প্রচারিত ব্যানারে কৃত্রিমভাবে সোহেলের ছবি সংযোজন করা হয়েছে। অন্যদিকে “আসল ফটো”তে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ডিজাইন ও ব্যক্তির ছবি রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

এর আগে পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকেও এক প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, জাকির হোসেন সোহেল নামে তাদের কোনো সদস্য নেই। সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বাবু ও সদস্য সচিব রবিউল করিম বাবু স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দাবি, জাকির হোসেন সোহেল অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজেকে যুবলীগ কর্মী হিসেবেই পরিচয় দিতেন।

রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, কোনো তথ্য বা ছবি যাচাই ছাড়া প্রচার করলে তা বিভ্রান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।