তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘর প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বললেন, মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত মানবতাবিরোধী, অন্যায় ও ন্যায়বিচারবিরোধী কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেবে না সরকার।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগী হলেও বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সব শক্তির সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক শক্তি ও সামাজিক শক্তি কখনো সমান নয়; একটি রাজনৈতিক দল তখনই সফল হয়, যখন দলমতের বাইরে বৃহত্তর সমাজের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পায়।
‘রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অনেক সময় নিজেদের সংগঠিত বলয়ের ভেতর দাঁড়িয়ে বৃহত্তর সমাজের শক্তিকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন। অথচ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দেশের মানুষ বারবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তাই হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে গোটা জাতি এক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই ঐক্যই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি’-উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, জাতীয় সংসদে তাদের প্রতি যে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে, তা আরও অর্থবহ করতে সংসদের শোক প্রস্তাব ও সদস্যদের বক্তব্য একত্র করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যেই কারণে সংসদে শাপলার শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে, সেই কারণেই তাদের প্রতি জাতির দায়িত্বও পালন করা হবে।
‘শাপলা, জুলাই, ১৯৫২ কিংবা ১৯৬৯-সব আন্দোলন ও আত্মত্যাগের সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে বাংলাদেশ, দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতা। কে ক্ষমতায় আছে বা নেই, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো জাতীয় লক্ষ্য ও ঐক্যকে ধরে রাখা। এই ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই দেশপ্রেমের কারণে প্রাণ দেওয়া সব শহীদের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে-যোগ করেন তিনি।