ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল ও খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪১ কেজি গাঁজা ও ৭১ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান, নগদ ৩২ হাজার ৮৫ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে ভাঙ্গা টোল প্লাজার দুই পাশে পৃথক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিকালে তাদের আটক করা হয়। এসআরবি-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া শাখার সহকারী পরিচালক তপন সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল ও খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে ভাঙ্গা টোল প্লাজার দুই পাশে পৃথক চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়।
সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৪১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার পৈকখালী গ্রামের মো. মাইনুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৩১ হাজার ১৮৫ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় মাদক বহনকারী কাভার্ড ভ্যানটিও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মো. মাইনুল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা টোল প্লাজার পূর্ব পাশে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ৭১ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এই ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কোলকাতা ভোগদীয়ার মো. আলী হোসেনকে (৫৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ৯০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এসআরবি-১০-এর দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন। উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে এসআরবি-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এসআরবি-১০।