জুলাই মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ধানমন্ডি মডেল থানার এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদিয়া আক্তার সেতু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে ধানমন্ডি ৩ নম্বর সড়কে ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় মো. সজিব ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক পিঠ ও কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার প্রেক্ষিতে ধানমন্ডি মডেল থানায় দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ও ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিকুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণে ওই হামলার ঘটনায় খাদিজা আক্তার উর্মির সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি অন্য একটি মামলায় আগে থেকেই কারাগারে থাকায়, নতুন এই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে তাকে গ্রেফতার দেখানো অত্যন্ত জরুরি ছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন উর্মি। সেই মামলায় কারাবন্দি থাকা অবস্থাতেই এবার ধানমন্ডির এই হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলো। আদালতের আদেশের পর আইনি প্রক্রিয়া মেনে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।