কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের কবলে পড়া সাধারণ নাগরিকদের উদ্ধারে অভিযানে গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত মো. তিতাস শেখ (২৭) সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন।

আইএসপিআরের ভাষ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র চক্র প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আভিযানিক দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পাচারকারীরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

উভয় পক্ষের মধ্যে এই গোলাগুলির এক পর্যায়ে সৈনিক মো. তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়েছে- গোলাগুলির একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চারটি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লক সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

তরুণ এই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাহিনীটি। এ ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের আটকের বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।