শ্রমিকদের সব ধরনের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্য এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড তাদের কাজও শুরু করেছে। এরপরও বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তখন শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

মজুরি বোর্ডের কার্যকারিতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যেখানে কোনো দাবি নিষ্পত্তিতে তিন থেকে চার বছর সময় লেগে যেত, বর্তমান সরকার সেখানে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। গত শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুর ১২টার আগেই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং একই দিন সন্ধ্যায় তার গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া তিন দিনের মাথায় বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় আবারও বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে।

মন্ত্রী শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে যেন তারা কলকারখানায় ফিরে যান। তিনি বলেন, দাবির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। কোনো ধরনের আবেদন বা পূর্ব আলোচনা ছাড়াই রাস্তাঘাট অবরোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি জানানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে—হয় শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে। সরকার সেই দাবির বিষয়ে সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকে। আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে, ইনশা আল্লাহ।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিল্প বাঁচলে তবেই আয় ও উৎপাদন বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সহায়তা করবে। তাই শিল্পের স্বার্থে মালিক ও শ্রমিক উভয়কেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি কারখানা বন্ধ রাখা মালিকদের দ্রুত কারখানা খুলে দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদেরও কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত করতে বলেছেন তিনি। নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন মন্ত্রী। আপনাদের সমস্ত দাবি সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই পরিবারের জন্য ভবিষ্যতে কী ধরনের সহায়তা করা যায়, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে।