উৎসবমুখর পরিবেশে ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সদস্য এস এম বিপুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত শিরালী, টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত হাওলাদার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস, কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইশতিয়াক হোসেন, সাব-রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা ফুড অফিসার ভক্তি পদ কর্মকার এবং খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাহার। এছাড়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী সমেশ বৈরাগী ও দিলীপ মণ্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ বিএম শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তপু শেখসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং সমাজের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। একটি সচেতন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে পেশাগত সততা, নিরপেক্ষতা এবং সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। একইসঙ্গে বিগত চার বছর ধরে এলাকা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে স্থানীয় সাংবাদিকতার বিকাশে টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাব যে ভূমিকা রেখে আসছে, তার প্রশংসা করা হয়। তারা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকতার বিকাশ, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা এবং এলাকার মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অধিকার নিয়ে সংবাদ প্রকাশে ভূমিকা রেখে চলেছে।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংগঠনটি আগামীতেও স্থানীয় উন্নয়ন, জণসচেতনতা বৃদ্ধি ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। এই বর্ষপূর্তি আয়োজন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও পেশাগত ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করেন উপস্থিত সকলে। শেষে ক্লাবের সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠান শেষ হয়। চার বছরের পথচলা শেষে আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল, শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা চর্চার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।