টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার এবং পাথরাইলের টেঘুরি সংলগ্ন পরেশ সাধুর দহের ওপর দীর্ঘদিনেও কোনো সেতু নির্মাণ করা হয়নি। আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল—এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে সেতু না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ। পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো, যা দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। ফলে নিত্যদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকার পথচারী, সাধারণ বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাদতলা থেকে টেঘুরি পর্যন্ত সড়কটি অনেক আগেই পাকা করা হয়েছে। কিন্তু সংযোগস্থলে সেতু না থাকায় পুরো পাকা সড়কটি এলাকাবাসীর যাতায়াতে কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতির বন্যা ভাসালেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতু না থাকায় টাঙ্গাইল জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য বাসিন্দাদের বিকল্প পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বাড়তি ঘুরে যেতে হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়।
নান্দুরিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, গাদতলা-টেঘুরি সড়ক পাকা হওয়ার পরও সেতুর অভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে কিছু মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করলেও দূরদূরান্তের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অবিলম্বে সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি। একই ভোগান্তির কথা তুলে ধরে জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া ও মুকুল হোসেন বলেন, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কোনো কাজ হয় না। পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টকর।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেতুটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।