সকালে কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা পানের অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে।
চা মন সতেজ করার পাশাপাশি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে বলে দীর্ঘদিনের ধারণা রয়েছে। সিলেটে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে, আভাস পাচ্ছেন স্যামি।
তবে চায়ের এই উপকারিতা কেবল কে কতটা পান করছেন তার ওপর নির্ভর করে না; বরং চা তৈরির ধরন এবং এটি কতটা গরম অবস্থায় পান করা হচ্ছে, সেটিও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিষণ্ণতার নতুন ধরন খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা।
চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে গবেষণাটির ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিয়ানা ওয়েন। বিশ্লেষণ / এইচএসসির ফলে ধাক্কা: এক দেশ, দুই শিক্ষাব্যবস্থা ও নিদারুণ বাস্তবতা।
গবেষণায় চীনের ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৪ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা প্রায় নয় বছর ধরে অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়—তারা সপ্তাহে কত দিন চা পান করেন, পছন্দ কোন ধরনের চা, চা কতটা কড়া করে বানান এবং কতটুকু গরম অবস্থায় তা পান করেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণকালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজসহ হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ১৪ হাজার ৮০০টির বেশি রোগের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। ২০২৭ সালে ২৯ দিন সরকারি ছুটি, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন।
ডা. লিয়ানা ওয়েন জানান, গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যারা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চা পান করেন, তাদের রক্তনালির নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়মিত চা না পান করা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। বয়স, ধূমপানের অভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন ও আগে থেকে থাকা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবের মধ্যে নেওয়ার পরও এই পার্থক্য স্পষ্ট দেখা গেছে। তবে শুধু চা পানই ঝুঁকি কমানোর একমাত্র কারণ নয়; যারা ধূমপান করেন না, শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয় এবং নিয়মিত চা পান করেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি ‘হোজিচা’, মাচার সঙ্গে পার্থক্য কী। শুধু ‘সরি’ বললেই কি ক্ষমা করা উচিত।
চায়ের ঘনত্বের সঙ্গেও রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। মাঝারি ঘনত্বের কড়া চা পানকারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। পাশাপাশি গ্রিন টির চেয়ে ব্ল্যাক টি বা লিকার চা বেশি ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। গবেষকেরা মূলত ক্যামেলিয়া সিনেনসিস উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টির প্রভাব বিশ্লেষণ করেন। প্রক্রিয়াজাতকরণের ভিন্নতার কারণে দুটি চায়ের পলিফেনল গঠনে পার্থক্য তৈরি হলেও দুটিই স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে ব্ল্যাক টির ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি কমার ধারাবাহিক প্রমাণ মিলেছে। চায়ের সম্ভাব্য উপকারিতার পেছনে রয়েছে এতে থাকা প্রাকৃতিক কিছু উপাদান। টাকা বা আনন্দ নয়, গবেষণা বলছে সুখের চাবিকাঠি অন্য কিছু।
গবেষণায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক ফল পাওয়া গেছে চায়ের তাপমাত্রার ক্ষেত্রে। যারা জিভ পুড়ে যাওয়ার মতো অতিরিক্ত গরম চা পানে অভ্যস্ত, নিয়মিত চা না পান করা ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের রক্তনালির রোগের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ বেশি দেখা গেছে। অপরদিকে সহনীয় বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চা পানকারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে ডা. ওয়েন উল্লেখ করেন, চায়ের তাপমাত্রা গবেষণাগারে সরাসরি না মেপে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করায় ব্যক্তিভেদে গরমের অনুভূতির তারতম্য থাকতে পারে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ। মানবদেহের গড় তাপমাত্রা আর ৯৮.৬ ডিগ্রি নেই।
চা পানের স্বাস্থ্যগত সুবিধা নিয়ে ডা. ওয়েন জানান, চায়ে থাকা ‘পলিফেনল’ ও ‘ফ্ল্যাভোনয়েড’ নামের উপাদানগুলো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এগুলো রক্তনালির কোষকে রক্ষা করে এবং ধমনির প্রসারণক্ষমতা বাড়ায়, যা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমায়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা কমে। এছাড়া চিনি ছাড়া চা পান করলে সোডা বা জুসের মতো অতিরিক্ত চিনি শরীরে ঢোকে না, যা ওজন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এসব উপাদানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী গুণ আছে। ফলের জুস, সোডা বা কোমল পানীয়ের পরিবর্তে চা পান করলে শরীরে বাড়তি চিনি প্রবেশ করে না।
দৈনিক কতটুকু চা পান করা নিরাপদ, সেটিরও একটি ধারণা মিলেছে গবেষণায়। দিনে ছয় থেকে আট কাপ চা পানকারীদের রক্তনালির রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম দেখা গেছে, তবে এর চেয়ে বেশি পান করলে ঝুঁকি ফের বাড়তে শুরু করে। ডা. ওয়েন অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, কাপের নির্দিষ্ট পরিমাপ না থাকায় ছয় থেকে আট কাপকে সার্বজনীন আদর্শ ধরা যাবে না। প্রতিদিনের ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রাও মাথায় রাখা দরকার। সাধারণত আট আউন্স বা ২৪০ মিলিলিটার ব্ল্যাক টিতে ৩০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, আর গ্রিন টিতে থাকে কিছুটা কম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) নির্দেশনামা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারেন, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে গর্ভবতী নারীদের দিনে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং শিশুদের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় থেকে দূরে রাখা উচিত। অতিরিক্ত ক্যাফেইনে উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় বা ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে।
অতিরিক্ত গরম চা পান করা খাদ্যনালির ক্যানসার বা ইসোফেজিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে সতর্ক করেছেন ডা. ওয়েন। তাই চা বানানোর পর তা খানিকটা ঠান্ডা করে স্বাচ্ছন্দ্যে চুমুক দেওয়ার মতো তাপমাত্রায় আসার পর পান করা উচিত। এতে মুখ বা গলা পুড়ে যাওয়া এড়ানো যায় এবং চায়ের গুণাগুণও বজায় থাকে। তিনি আরও বলেন, যারা একেবারেই চা পান করেন না, তাদের হৃদরোগ প্রতিরোধে নতুন করে চা পান শুরু করার দরকার নেই। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম করা, ধূমপান ত্যাগ এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখেও হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সম্ভব। সিরাজগঞ্জে ঘুরতে গিয়ে কোথায়-কী খাবেন, এই ৭ জায়গা চেনেন।