পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গড়ে ওঠা পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার বিকেলে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে পাঁচটি ইটভাটা মালিককে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। অভিযানের সময় তিনটি ইটভাটার চিমনি ও কিলন (ইটভাটার চুল্লি) এক্সকাভেটর দিয়ে ভেঙে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে এগুলো আর কোনোভাবেই পরিবেশ দূষণ করতে না পারে।

অভিযান ও আইনি কার্যক্রম

পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী সচিব রেজওয়ান-উল ইসলামের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুল মমিন প্রসিকিউশন প্রদান করেন। এ সময় পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলীসহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইন প্রয়োগ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

আইন অমান্যের চিত্র ও জরিমানা

  • অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর বিভিন্ন ধারা অমান্য করে অবৈধভাবে এসব ইটভাটা দীর্ঘ দিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল।
  • অভিযানে উপজেলার থানাপাড়া এলাকার ইটভাটা মালিক মো. ইমদাদুল হককে ৭ লাখ টাকা, জহুরুল ইসলামকে ৫ লাখ টাকা, ডেমরা এলাকার রবিউল ইসলামকে ৮ লাখ টাকা এবং আনিসুল ইসলামকে ৫ লাখ টাকাসহ মোট পাঁচটি ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
  • পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও সব ধরনের বৈধ অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এসব ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনস্বার্থে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, কৃষি জমি রক্ষা, বায়ুদূষণ রোধ এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না এবং অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য বন্ধে অধিদপ্তরের এমন অভিযান চলমান থাকবে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।