রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় নিজের ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাটে অনৈতিক ডিজে পার্টি ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় অবস্থিত পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় আসা এ অভিযানের পর ডিবি বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে জানায়।
গত ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে খিলক্ষেতের পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকার ওই ভবনে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে ২০ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় দায়িত্বরত জহিরকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই অপ্রীতিকর ঘটনা ও সংবাদ প্রকাশের পর জনসমক্ষে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর থেকে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর বলে গণ্য হবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ‘পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন’ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিভাগীয় ব্যবস্থার মূল কারণসমূহ
- বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ: এই কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অভিযোগের ধরন: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী একে ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
- ভাতা প্রাপ্তি: বরখাস্তকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরকারি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- আবা/এসআর/২৬।