২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুড়িগ্রাম জেলায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত শূন্য শতাংশ পাস করা কলেজের তালিকায় দেখা গেছে, জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত শূন্য শতাংশ (০%) পাসকৃত কলেজের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার এই ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের আওতাধীন আটটি জেলায় মোট ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে সক্ষম হয়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯টি কলেজ রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থায় এই ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজ থেকে ১০ জন, সিঙ্গার ডাবরীর হাট বিএল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬ জন, কুটি পয়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন, চিলাখানা মডেল কলেজ থেকে ৪ জন, হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩ জন, দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন এবং পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর মতে, চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত সংকট, নিয়মিত শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকদের ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত না আসা এবং মোবাইলের প্রতি আসক্তিকেও এই ফলাফলের জন্য দায়ী করেছেন তিনি।