জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকার ফিরতি ফ্লাইটটি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ফ্লাইটটির উড্ডয়নের নির্ধারিত সময় থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ত্রুটি মেরামত না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমান থেকে নেমে গেছেন। অন্য যাত্রীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হওয়ার কথা জানান।

ফ্লাইট বিজি-৩৭৭-এর যান্ত্রিক ত্রুটি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটি বোর্ডিং শেষে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়েছিল। কিন্তু রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ককপিটে স্পয়লারের ত্রুটিসংক্রান্ত সংকেত দেখা দেয়। এই সংকেত পাওয়ার পর পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমানটিকে পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেন। বিমানের পাইলট ইমামুল ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে আরও দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হতে পারে। পরে উড়োজাহাজটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

মেরামত ও কারিগরি কার্যক্রম

  • ইঞ্জিনিয়ার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল ত্রুটি সারানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
  • উড়োজাহাজের ডানায় থাকা স্পয়লার অবতরণের সময় গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উড্ডয়নের প্রতিটি পর্যায়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে স্পয়লারের ত্রুটি মেরামত ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
  • বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ জানিয়েছেন, প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে ত্রুটি মেরামতের কাজ করছেন।

প্রকৌশলীদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, উড়োজাহাজটিকে পুনরায় উড্ডয়নযোগ্য অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

তবে ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রা সম্পূর্ণভাবে মেরামতের কাজ শেষ হওয়া এবং কারিগরি সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমান থেকে নেমে বিমানবন্দরে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটির নিরাপদ যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে। নারিতা বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। উড়োজাহাজের ডানায় থাকা স্পয়লার অবতরণের সময় উড্ডয়নক্ষমতা কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।