দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে প্রবেশের পাস বিক্রির আড়ালে বিপুল আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে। বুধবার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তাকে হেফাজতে নিয়েছে। চন্দননগরের সাবেক তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে পুলিশের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের প্রবেশপাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার ভুয়া পাস বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর থেকে। এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের বৌবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রাথমিক তথ্য পায় যে, এই দুর্নীতির পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর আগে এই তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীলের কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

গ্রেপ্তারের আগে বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডির দপ্তরে ইন্দ্রনীলকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে গোয়েন্দাদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। মূলত তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এ অভিযোগের তদন্তে একাধিকবার পুলিশি জেরার মুখে পড়েন সাবেক এই মন্ত্রী। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দপ্তর থেকে বেরিয়ে আসার পরই পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইডিও।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, উৎসবের নামে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে ভুয়া পাসগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এই বিপুল অংকের অর্থ লেনদেনে ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে বর্তমানে মামলার আইনি অবস্থা এবং ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত অবস্থান বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।