বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু
- আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু: রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার।
- বৈঠকের সময় ও স্থান: জাপানে স্থানীয় সময় আজ সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে।
- অংশগ্রহণকারী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জেটরো প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন ও সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অটোমোবাইল, উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
উভয় পক্ষ একমত হয় যে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনে জাপানের সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এসব উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, দেশটি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগের ফলে জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ স্পষ্টভাবে বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠক শেষে জেটরো প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসময় কাতাওকা সুসুমুকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।