ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠিত হলো ২৭ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। এবারের আয়োজনে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। গ্ল্যামারাস এই লালগালিচায় মাইক্রোফোন হাতে নজরে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফুয়াদ আবদুল–আজিজ। তিনি সেখানে ডাজোন চ্যানেলের হয়ে উপস্থাপনা করেছেন এবং রথী-মহারথীদের মুখোমুখি হয়েছেন।

ফুয়াদের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। শৈশবেই লন্ডনে পাড়ি জমান এবং শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ক্রীড়া কনটেন্ট তৈরির জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে। ২০১৮ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভাইপার স্পোর্টস’ খোলার পর থেকেই তিনি পরিচিতি পেতে শুরু করেন। শুরুর দিকে বক্সিং নিয়ে কাজ করলেও মহামারীর সময় থেকে সম্পূর্ণ মনোযোগ ফুটবলের দিকে সরিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বখ্যাত ফুটবল প্ল্যাটফর্ম ‘৪৩৩’-এর সঙ্গে কাজ করছেন। এর আগে বিবিসি, ওহ মাই গোল ও ডাজোনের মতো নামীদামী গণমাধ্যমের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।

ফুটবলার কিউবা মিচেলকে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে ফুয়াদ প্রথম বাংলাদেশিদের নজরে আসেন। এরপর থেকে তিনি হামজা চৌধুরীর খেলার ওপর নজর রাখতেন এবং জাতীয় দলের খেলা দেখতে বিভিন্ন দেশে উড়ে গেছেন। প্রিমিয়ার লিগসহ লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় আসরে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে। এবারের ব্যালন ডি’অর আয়োজনে ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফাব্রিজিও রোমানোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। লালগালিচায় হ্যারি কেইনকে প্রশ্ন করার পাশাপাশি এমবাপ্পে, রদ্রি ও রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিদের তিনি উপহার দিয়েছেন লন্ডনের স্যুভেনির বাসের চাবির রিং।

নিজের শিকড়কে সবসময়ই গুরুত্ব দেন ফুয়াদ। লন্ডনের সেই বর্ণিল মঞ্চে ফুয়াদের স্যুটের ল্যাপেলে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের পতাকার পিন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে তিনি বাংলাদেশকে নিজের সঙ্গে বহন করেন, যা তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।