জাপানের সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের জন্য এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে আসে। এক্সপ্লেইনার / ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ কী, কেন ৯০ দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। ৩৫ উড়োজাহাজ ক্রয়: পরামর্শক নিয়োগ আবেদনে মাত্র ৮ দিন দিল বিমান। মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু। একইসঙ্গে তিনি ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়

  • বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ৫ বছরে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বা এক ট্রিলিয়ন ইয়েন।
  • কর্মসংস্থান সম্ভাবনা: এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা।
  • বাস্তবায়ন কৌশল: দ্রুত বাংলাদেশে একটি জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
  • প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ: দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সমন্বয় বাড়াতে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে জানান, সরকার করনীতি, শুল্ক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। পেঁয়াজ সংরক্ষণে বাকৃবির নতুন প্রযুক্তিতে ১৬ শতাংশ ক্ষতি কমার আশা। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের নবম বৃহত্তম উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এছাড়া গবেষণানির্ভর অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন তিনি। বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন। বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা গড়বে টয়োটা, প্রধানমন্ত্রীকে জানাল পরিকল্পনা। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ছয়টি বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণ।

মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতেও জাপানের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সহযোগী। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। পাশাপাশি, মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অবদানকেও স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বহুপাক্ষিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান।

তিনি রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও গভীর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। প্রথম টেস্টের আগে অনুশীলনে মুশফিকের চোট।